হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

গাইবান্ধা ও নাটোর: শীত-কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বোরোর বীজতলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

হলুদ রং ধারণ করেছে বীজতলা। সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা এলাকা থেকে রোববার দুপুরে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশার কারণে গাইবান্ধা ও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক জায়গায় চারা মরে যাচ্ছে, আবার জীবিত চারাগুলো হলদে হয়ে পাতা নষ্ট হচ্ছে। ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে হঠাৎ তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার চারায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

গাইবান্ধা: জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর গাইবান্ধায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমি। বিপরীতে বীজতলা রয়েছে ৬ হাজার ৮১২ হেক্টর।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পূর্ব কোমরনই গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে অধিকাংশ বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকের বীজতলা ইতিমধ্যে পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে অনেক বীজতলা সাদা রং ধারণ করেছে। কোথাও চারার গোড়ায় পচন ধরেছে, আবার কোথাও চারা শুকিয়ে গেছে। বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা গরম পানি ছিটানো, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, ওষুধ প্রয়োগসহ নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুন্দরগঞ্জ বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা গ্রামের কৃষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘আবাদ করার মতো মোর চাইর বিঘা ভুই আছে। ধানের বেসনোত (বীজ) মোর খরচ হইবে কম করি হইলেও ছয় হাজার ট্যাকা। বেসনও খুব সুন্দর হইছিল মোর। কয়দিনের শীতে অবস্থা খারাপ হইছে। সাদা হয়া পচি যাবার নাইকছে। নষ্ট হইলে ভুই গাইরবার বেসোন মুই কোন্টে পাইম সেই টেনশনে আছোম।’

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলাগুলোতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। বীজতলার যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে কৃষিকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি কৃষকেরা বীজতলা নিয়ে তেমন ক্ষতির মুখে পড়বেন না।’

নলডাঙ্গা (নাটোর): নলডাঙ্গা উপজেলায়ও একই পরিস্থিতি। হালতি বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গত বুধবার থেকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে।

হালতি বিলের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ইসাহাক আলী বলেন, ‘এবার আমি পাঁচ কাঠা জমিতে বোরো বীজতলা করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে চলা কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে পচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তায় আছি।’

বীজতলা রক্ষায় অনেক কৃষক রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন বীজতলা। পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী কারাগারে

গাইবান্ধায় জামায়াতের প্রার্থীসহ আটজনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা

পলাশবাড়ীতে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

গাইবান্ধায় গাছ কাটার সময় চাপা পড়ে দুই বোনের মৃত্যু

গাইবান্ধায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: সরকারি পুকুরের মাছ ইউএনওসহ কর্তাদের বাসায়

গাইবান্ধায় টানা ৫ দিন পর দেখা মিলল সূর্যের

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে ভোটে থাকবে না জাপা: শামীম হায়দার

গাইবান্ধায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নারী নিহত

গাইবান্ধায় নিজ গ্রামে শান্তিরক্ষী সবুজের লাশ দাফন