ফেনীর দাগনভূঞায় ডোবা থেকে মোহাম্মদ হাসান নামের ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমানউল্লাহপুরের দাসপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার দাসপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৯ মে) দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে জমজ ভাই হোসেনের সঙ্গে খেলতে যায় হাসান। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাদের দাদি ঘরের বাইরে এসে হোসেনকে পেলেও হাসানের দেখা পাননি। তাৎক্ষণিক আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। সেই রাতেই তার বাবা তারেকের মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়। হাসানকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে সেই ব্যক্তি প্রথম ১২ হাজার ও পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর রাতে অজ্ঞাতনামা সেই ব্যক্তির ফোনকলের বিষয়েও পুলিশকে অবহিত করা হয়।
নিহত শিশুর মা তারজিনা আক্তার বলেন, ‘যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ডোবার আশপাশে আমরা আগেও খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু তখন দূর থেকে কিছু দেখা যায়নি। সবশেষ আজ সকালে প্রতিবেশী হাসিনা ডোবায় ছেলের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে আমাদের জানান। আমাদের অগোচরে হয়তো ডোবায় পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।'
এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার বাবা ফেসবুকে নিজের নম্বর দিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখান থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে প্রতারক চক্রের কেউ হয়তো ফোন দিয়েছেন। তদন্তের পর দেখা গেছে, ওই মোবাইল ফোন নম্বরটি নওগাঁ জেলার। নিখোঁজ ডায়েরি করার পরপর পুলিশ পরিবারটিকে সহযোগিতা করেছে।
ওসি আরও বলেন, শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পানিতে ডুবে মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।