ফরিদপুরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে বুলডোজার দিয়ে একটি মাদ্রাসার ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত জাসাস নেতার একটি সুপারশপে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের গোয়ালচামট হাউজিং এস্টেট এলাকায় অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জাসাসের ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আলিমের নেতৃত্বে বুলডোজার দিয়ে মাদ্রাসার একটি টিনশেড ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস এবং ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেন। আকস্মিক এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে ছোট ছোট শিশুরা কান্নাকাটি করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে আসে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে শিক্ষক হাফেজ আবু তালহা (২৬) ও হাফেজ মুহিবুল্লাহকে (২৪) লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা আহত হলে তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বসির আহমাদ দাবি করেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটির কিছু জমি আগে ফরিদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুদ্দিন মিরাজ দখল করে রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জায়গাটি উদ্ধার করে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে। তবে জাসাস নেতা আবদুল আলিম ওই জমির দখল নিতে চাইছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার ঘর ভাঙার পর সংলগ্ন ‘হাউজিং এস্টেট সুপারশপ’-এ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দোকানটির মালিক আবদুল আলিম। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার জাকির হোসেন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
এ ঘটনায় জাসাস নেতার অভিযোগ, মাওলানা বসির আহমেদের পক্ষে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম এবং ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি গাজী মনিরের নেতৃত্বে সুপারশপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তিনি নিজের জায়গা পরিষ্কার করতে বুলডোজার ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এরপরে মাদ্রাসার মুহতামিম বাইরের লোক দিয়ে তাঁর দোকানে আগুন ধরিয়ে সব পুড়িয়ে দিয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাদের সাহায্য নিয়ে মাদ্রাসায় বুলডোজার চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটি দল করি। আমার বিপদে আমার দলীয় ভাইয়েরা আসবেন, এটাই স্বাভাবিক।’
তবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা বসির আহমাদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ আগুন দেয়নি। তারা নিজেরাই আগুন দিয়েছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালাতে দেখা গেছে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এক প্রতিবন্ধী কিশোরকে দোকান থেকে বের করে আনার পর ভেতরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘এটি মূলত জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনা। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’