পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যান ফরিদপুরের শোয়াইব বিশ্বাস (২৩)। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর একটি কোম্পানিতে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। দুই মাস আগে বিয়ে করার পর ছুটি শেষে ১ জুলাই আবার মালয়েশিয়া ফিরে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পরিবার ছেড়ে আসার মাত্র ১০ দিনের মাথায় কর্মস্থলে বুম ক্রেনের চাপায় প্রাণ হারালেন এই যুবক।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভগ্নিপতি তুহিন হাসান। এর আগে সকালে মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের শওকত বিশ্বাসের বড় ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজ।
পরিবার জানায়, মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বুম ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেছিলেন শোয়াইব।
ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, ‘দুপুরে ওই কোম্পানির দায়িত্বরত বাংলাদেশি এক ব্যক্তি আমার মোবাইলে ফোন করে মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে৷ এ ছাড়া ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে। তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।'
ওই ব্যক্তির বরাতে তুহিন হাসান বলেন, ‘ওই বুম ক্রেনটি শোয়াইব নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করত। কাজ করাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ভবন ও মেশিনের মাঝখানে সে আটকে যায় এবং মেশিনের চাপে মারা যায়। কর্তৃপক্ষ লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছে। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।'
এ বিষয়ে ফরিদপুর প্রবাসীকল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতা না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বৈধ কর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।'
আশিক সিদ্দিকী আরও বলেন, তা ছাড়া মরদেহ দেশে এলে বিমানবন্দর থেকে লাশ বহন ও দাফন বাবদ নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হবে এবং পরে ক্ষতিপূরণ বাবদ এককালীন তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে।