ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের একটি অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও এক দিন আগে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেন।
গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল, দড়ি সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, বারাংকুলা, বড়গাঁ, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলী, কাটাগড়, কলিমাঝি, বন্ডপাশা, জয়দেবপুর ও দিঘিরপাড়।
শুক্রবার সকাল থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এসব গ্রামে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোয়ালমারীর সহস্রাইল দায়রা শরিফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে। এসব ঈদের জামাতে পাশের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শুকুরহাটা ও ইছাপাশা গ্রামের কিছু মুসল্লিও অংশ নেন।
জানা গেছে, ১৩টি গ্রামের কিছু মুসল্লি বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রমজান মাসের রোজা রাখা শুরু করেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে আসছেন। সেই হিসেবে তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।
সহস্রাইল দায়রা শরিফের সমন্বয়ক মো. মাহিদুল হক বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখীল শরিফের অনুসারী। সেখানকার সিদ্ধান্ত এবং সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা রোজা রাখা ও ঈদ উদ্যাপন করে থাকি। সে অনুযায়ী এবারও আমরা ঈদ পালন করেছি।’
এ বিষয়ে শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্লা বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি এই এলাকার কিছু মানুষ আগাম রোজা রাখেন এবং ঈদ উদ্যাপন করেন। এটি তাঁদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও অনুসরণের অংশ।
ঈদ উদ্যাপন করা মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফ প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী সুফি দরবার। দরবারটির অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রমজানের রোজা রাখেন এবং ঈদ উদ্যাপন করেন।