ফরিদপুরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮৪ বছর বয়সী শয্যাশায়ী এক বৃদ্ধের জানালার পাশে মোবাইল রেখে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে ও আওয়াজ করে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোলাইমান হোসাইন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়িতে ঘটেছে বলে অভিযোগ। আলতাফ হোসেনের বড় ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ নূর তাঁর বাবার নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরিটি করেন।
পরিবারটির অভিযোগ, আলতাফ হোসেনের বৈধভাবে কেনা জমি নিয়ে প্রতিবেশী সোলাইমান হোসাইনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে পরিবারটি। তাঁদের দাবি, ক্যামেরার ফুটেজে বৃদ্ধকে মানসিক নির্যাতনের ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সোলাইমান হোসাইনের নির্দেশে তাঁর খালা পিঞ্জিরা খাতুন (৪৮) ও লাইলী বেগম (৫৬) একাধিকবার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা শয্যাশায়ী আলতাফ হোসেনের ঘরের জানালার পাশে মোবাইলে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে রেখে যান দীর্ঘ সময়। এ ছাড়া অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে ও পুলিশ সদস্য ইউসুফ নূর বলেন, ‘আমার বাবার বয়স ৮৪ বছর। শারীরিক নানা সমস্যায় তিনি বর্তমানে শয্যাশায়ী। সোলাইমানের নির্দেশে তাঁর আপন খালা পিঞ্জিরা বেগম প্রতিনিয়ত জানালার কাছে এসে বিকট শব্দে মোবাইলে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে রেখে যান। হঠাৎ এসে বিকট শব্দ করে ভয় দেখিয়ে চলে যান। তাঁদের এই জুলুম আমার বাবাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
ইউসুফ নূর আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর একজন সদস্য হয়েও আমার অসুস্থ পিতার কোনো উপকারে আসতে পারছি না। এই জুলুমের শেষ কোথায়? মানসিকভাবে হয়রানি করে আমার বাবাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা কি এর কোনো প্রতিকার পাব না?’
অভিযোগের বিষয়ে সোলাইমান হোসাইন বলেন, ‘এসবের কিছুই আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। এই অভিযোগও মিথ্যা ও বানোয়াট। উল্টো ইউসুফ নূর বাড়িতে এসে আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।