ফরিদপুরে দলিল ঘষামাজা (টেম্পারিং) করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ইউসুফ আলী মিয়া (৬০) নামের এক সাবেক সাবরেজিস্ট্রারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে এই আদেশ দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা। পরে তাঁকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
ইউসুফ আলী বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার নবোত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, ফরিদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৭ সালের ১৫ মে থেকে ২০১৮ সালের ২৮ মে তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে একটি মূল্যবান হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের পাতা ঘষামাজা ও ফ্লুইড দিয়ে লেখা মুছে জমি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সাবেক সাবরেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা করেন সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাশার।
এ ঘটনায় অন্য চার আসামির মধ্যে রয়েছেন সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের তুলনাকারক ও ফরিদপুর জেলা সদরের বাখুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান (৩৭), নকলকারক জেলা সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের কুঞ্জিনগর গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন (৪০), পাঠক অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ভাষাণচর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ শেখ (৪১) ও চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. জিন্নাহ শেখ (৫৭)।
মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালজালিয়াতি ও অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় লাভের বশবর্তী হয়ে ফরিদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মূল কপির ৬ নম্বর পাতায় জালিয়াতি করেন। দলিলে থাকা স্ট্যাম্প নম্বর-০৩১৭১৯৭-এর শেষ লাইনের পরের অংশে, যেখানে ‘যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন’ কথাটি লেখা ছিল, তা আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে ঘষামাজা করে ও ফ্লুইড দিয়ে পুরোপুরি মুছে ফেলেন।
নথিতে দেখা যায়, মূল দলিলের উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু মুছে ফেলার পর অন্য অংশটি বালামভুক্ত করা হয় এবং বালাম বহির সংশ্লিষ্ট অংশে দাপ্তরিক স্বাক্ষর করা হয়। এর মাধ্যমে দলিলের প্রকৃত গ্রহীতা ও মূল অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে মোট ৯ (নয়) শতাংশ জমির দখলভোগ হতে সুকৌশলে বঞ্চিত করার অপরাধমূলক চেষ্টা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক রতন কুমার বলেন, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত এজাহারটি আমলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় আজ আদালতে জামিন নিতে আসেন ইউসুফ আলী মিয়া। এ সময় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া অন্য আসামিরা আদালতে জামিন নিতে উপস্থিত হননি।
রতন কুমার আরও বলেন, মামলার তদন্তকালে এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা ও যোগসাজশ পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইন অনুযায়ী এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।