হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

স্কুলের চুরি হওয়া মালামাল বিক্রি, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

যুবকের চুল ও গোঁফ কেটে দিল বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চুরি হওয়া বেঞ্চের লোহার ফ্রেমসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রির সময় সাব্বির খান (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে বিদ্যালয়ে নেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ব্লেড দিয়ে তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আটক যুবক সাব্বির খান ওই এলাকার আবুল খানের ছেলে। তিনি বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বেঞ্চের চারটি লোহার ফ্রেম, একটি স্টিলের সাইনবোর্ড ও লোহার গ্রিল। আজ সকালে কানাইপুর বাজারের একটি দোকানে এসব মালামাল বিক্রি করতে যান সাব্বির। সে সময় বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দোকানে গিয়ে সাব্বিরকে আটক করেন। পরে মালামালসহ তাঁকে তিন চাকার একটি নছিমন গাড়িতে বেঁধে বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সামনে বসিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ব্লেড দিয়ে সাব্বিরের চুল ও গোঁফ বিকৃতভাবে কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী দত্ত বলেন, ‘গত মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ করে চলে আসা হয়। একদিন বন্ধ থাকায় আজ বিদ্যালয়ে গিয়ে চুরির বিষয়টি দেখতে পাই। হয়তো এর কোনো এক সময়ের মধ্যে মালামালগুলো চুরি হয়।’

বাসন্তী দত্ত বলেন, ‘আমরা চোরকে ধরে এনে একটি কক্ষে আটকে রেখে ৯৯৯-এ পুলিশে খবর দিয়েছিলাম। এ সময়ে এলাকার ছেলেরা হয়তো তাঁর মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছে। তবে পুলিশ আসার আগ মুহূর্তেই ওই কক্ষ থেকে পালিয়ে চলে যায় যুবক। এ ঘটনায় মামলা করার জন্য আমি থানায় এসেছি।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘চোর আটকে রাখার খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ গিয়ে তাকে পায়নি। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’