হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ওবায়দুর-ইউসুফের ধানের শীষের শূন্য প্রান্তরে দুই কন্যার জাগরণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ও চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে গত দশক পর্যন্ত বিএনপির সম্মুখসারির মুখ ছিলেন ফরিদপুরের দুই কিংবদন্তি। তাঁদের একজন কে এম ওবায়দুর রহমান, অপরজন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। এই দুই নেতার প্রয়াণের পর ফরিদপুরে বিএনপির রাজনীতিতে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে দীর্ঘ দেড় যুগ পর সেই শূন্যস্থানে নাম লেখালেন তাঁদের উত্তরসূরি দুই কন্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বেসরকারিভাবে তাঁদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়) পদে রয়েছেন। আর ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। দুজনই প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. আকরাম আলী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। তাঁদের ভোটের ব্যবধান ৩২ হাজার ৩৮৯। অপর দিকে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তাঁর নিকটতম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। তাঁদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট।

শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু

দক্ষিণবঙ্গের সিংহপুরুষ হিসেবে খ্যাত ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমান। তিনি ১৯৪০ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের খন্দকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। একপর্যায়ে সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি দলটি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একবার বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৮৬-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

কে এম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। ফাইল ছবি

সেই কীর্তিমানের কন্যা শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর লিগ্যাসির হাল ধরেন শামা। বাবার অনুপ্রেরণায় যুক্ত হয়ে পড়েন সালথা-নগরকান্দার বিএনপির রাজনীতিতে। তরুণ ও উদীয়মান নারীনেত্রী হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত বছরের নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বাবার রেখে যাওয়া কীর্তিময় ধানের শীষের শূন্যস্থান পূরণ করলেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে নগরকান্দার ঐতিহ্যবাহী বাড়িটিতে ফিরেছে জৌলুশ। রাত থেকেই নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকে সেই ভিড় যেন আরও বাড়তে শুরু করে। হাজারো ব্যস্ততার এক ফাঁকে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। এ সময় তিনি রাজনৈতিক দর্শনকেই স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলন, সংগ্রাম আর পরিশ্রমের সফলতা পেয়েছি। এই নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আমি আশা করি, সালথা-নগরকান্দার আপামর জনতা দল-মতনির্বিশেষে শান্তি বজায় রাখবে এবং সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বিরাজ করবে। জনগণ আমাকে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই।’ এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ

ফরিদপুরে বিএনপির ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। ১৯৭৯-২০১৮ সাল পর্যন্ত সাতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন।

তাঁরই সুযোগ্য কন্যা চৌধুরী নায়াব ইউসুফ (৫৬)। তিনি ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে বাবার সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়ান চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। বাবার আকস্মিক বিদায়ে রাজনীতির সব দায়ভার এসে চাপে তাঁর ঘাড়ে। কামাল ইউসুফের হাজার অনুসারী নায়াবের মধ্যে তাঁর বাবার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেতে শুরু করেন।

বাবা হারানোর শোক বুকে পাথরচাপা দিয়ে নেমে আসেন জনতার কাতারে। বাবার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তাঁকে হারাতে হয় মা শায়লা কামালকে। তবে শোকে মূর্ছা যাওর পাত্র নন নায়াব। সব শোক, বাধা, বিপত্তি পেরিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। এরই পরিক্রমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাত থেকেই ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিল হয়ে উঠেছে এক আনন্দের কুটির।

আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাজের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর সদরকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যাব। দল-মতনির্বিশেষে এই ফরিদপুরবাসীর জন্য আমি কাজ করে যাব। সবাই মিলে বৈষম্যহীন চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত উন্নয়নের ফরিদপুর গড়ে তুলব। সবাই যেন বলতে পারে, নায়াব ইউসুফ বিএনপির পক্ষ থেকে ফরিদপুরের উন্নয়ন করেছেন।’

ফরিদপুরে ভোটের তর্কের জেরে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, আহত ১১

ফরিদপুরে তিন আসনে বিএনপির জয়, একটিতে জামায়াত

ফরিদপুরের চার আসনের তিনটিতে এগিয়ে বিএনপি, একটিতে জামায়াত

ভোটার তালিকা অ্যাপে থাকলেও লিস্টে নেই নাম, ভোট দেওয়া হলো না মনোয়ারার

ফরিদপুরে বাস উল্টে নিহত ২

সম্পদের তথ্য গোপন করায় যুবলীগের সাবেক নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফরিদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নারী-শিশুসহ আহত ২৫

ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদের ভাইয়ের হাসপাতালে গিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি

পুকুরে লুকিয়ে রাখা ছিল বিপুল অস্ত্র-গুলি, পানি সেচে জাল ফেলে উদ্ধার