রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গত বুধবার বাস দুর্ঘটনায় নাসিমা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নাসিমার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে। তাঁর লাশ শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন তাঁর স্বজনেরা। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টায় নিজ গ্রামে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
পার্বতীপুর পুলিশ ও নাসিমার স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। তিনি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির উদ্দেশ্যে সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। এক মাস চেষ্টার পরও চাকরির ব্যবস্থা না হওয়ায় ঈদ করতে ভাগনির সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান তাঁরা। ঈদ শেষে গত বুধবার বিকেল ৫টায় বাসযোগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন নাসিমা, তাঁর ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশুসন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দুর্ঘটনার সময় সবাই বাসের ভেতরে ছিল। কিছুক্ষণ পর সাঁতরে উঠে প্রাণে বাঁচেন আব্দুল আজিজ। এর প্রায় ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, তাঁর ভাগনি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সব আইনি কার্যক্রম শেষ করে গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁর আত্মীয়রা।
নিহত নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, নিহত নাসিমা রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার সময় সেখানে চাকরি করতেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য ঢাকা যাওয়াই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত নদীতে ডুবে মারা গেলেন তিনি।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পরিদর্শন করেছি।’
এদিকে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যান পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নিহত নাসিমার পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেন তিনি।