আপাতত জঙ্গি তৎপরতার কোনো আলামত না থাকলেও নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে পুলিশ। এমনটি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে হোসাইনি দালান ইমামবাড়ায় ১০ মহররম পবিত্র আশুরা পালনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এ কথা জানান। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জেল ভেঙে প্রায় ৭৮০ জন আসামি ও কয়েদি পালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চলতি বছর এ ধরনের কোনো আলামত আছে কি-না অথবা এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা পুলিশ দেখতে পাচ্ছে কি না— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এ বছর এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলামত আমাদের কাছে নাই। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেকোনো ধরনের নাশকতা, যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাশকতা ও জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। এ কারণে গত তিন দিন ধরে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চেকপোস্ট, মোবাইল ও ফুট পেট্রোল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য সমাবেশ বা মিছিল ঠেকাতে মেস, হোটেলসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ডিএমপি কমিশনারের দাবি, নিষিদ্ধ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় তাদের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে পুলিশের ধারণা, সুযোগ পেলে তারা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। যদিও বড় ধরনের কোনো নাশকতা সংঘটনের সুযোগ তারা পায়নি।’
ঢাকার বাইরে থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ওই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু ব্যক্তি ঢাকায় আসার চেষ্টা করেছে। এ কারণে রাজধানীর প্রবেশমুখ, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার বাইরে থেকে কেউ রাজধানীতে প্রবেশ করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’