সাদ্দাম-ইনানসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা। মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরাও।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী, পথচারী ও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। আর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণ করেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, জুলাই গণহত্যার অন্যতম প্রধান ‘মাস্টারমাইন্ড’ ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্টদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিমকে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। সরকার যেন শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, সদস্যসচিব নাবিল আহমদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম ও সহকারী সদস্যসচিব মো. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল সাতজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে উল্লেখিত সাত আসামিই পলাতক রয়েছেন।
সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।