হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ডেমরা ও রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ গ্রেপ্তার ২, অস্ত্র-গুলি জব্দ

শ্যামপুর-কদমতলী (প্রতিনিধি) ঢাকা 

পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত

‎রাজধানীর ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ‘মাদক সম্রাট’-খ্যাত মো. মাসুদ রানা (৩৫) ওরফে কাইল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেমরার আলোচিত রুবেল হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাপসকেও (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা-পুলিশ।

গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে প্রথমে ডেমরা সেতুর ঢাল এলাকা থেকে তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকার জনৈক জলিলের বাড়ি থেকে কাইল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎এ সময় তল্লাশি করে ওই সন্ত্রাসীদের হেফাজতে থাকা ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও এক নলা শুটারগান ও ৮ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ জব্দ করা হয়।

‎গত ২৮ আগস্ট ভোর রাতে সারুলিয়ায় ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় তদন্তের পর পুলিশ এ অভিযান চালায় বলে জানানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান ছামি।

পুলিশ জানায়, ‎গ্রেপ্তার মাসুদ রানা ডেমরার বক্সনগর এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার পালক ছেলে ও তাপস বড়ভাঙ্গা মহাকাশ রোড এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। তাপস এলাকায় আগে যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আলোচিত বিদ্যুৎ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত এই তাপস ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক রানার মাধ্যমে বর্তমানে বিএনপির ক্যাডার হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজন ডেমরা থানা এলাকায় অস্ত্রের দাপটে নির্বিঘ্নে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।

‎এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে অস্ত্রসহ রূপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রূপগঞ্জের বরাবো এলাকার জলিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে একটি পুরোনো একনলা শটগান ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

‎উল্লেখ্য, এর আগে ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪টি মোটরসাইকেলে ৮ জন সন্ত্রাসী ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বাড়ির দোতলার একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।