হোম > সারা দেশ > ঢাকা

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের জবানবন্দি, চালক ৪ দিনের রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গ্রেপ্তার ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। ছবি: ডিএমপি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন নামের ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আরেকজনকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

জবানবন্দিতে দুই আসামি নিহতের কোমরে গুঁজে রাখা টাকা দেখে লোভে পড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনই একটি বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার।

আজ রোববার সাজু লস্কর ও মাহবুব আলম মনির নামে দুজন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন। আর সোহেল রানা নামে গ্রেপ্তার আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সাজু লস্কর ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি পরিবহনের সুপারভাইজার, মাহবুব আলম মনির ওই পরিবহনের সহকারী এবং সোহেল রানা ওই বাসের চালক।

রোববার দুপুরের পর তিনজনকে আদালতে হাজির করে বনানী থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন ও বাসচালক সোহেল রানাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি সাজুর এবং ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ আসামি মনিরের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে দুজনকে কারাগারে পাঠানো ও সোহেল রানাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার জন্য রওনা দেন। এ সময় গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে বাসে ওঠেন। তাঁর আসার খবরে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি সেটি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে বাসায় চলে যান।

দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেন ছেলে হাসান। তিনি জানতে পারেন, বনানী থানা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁর বাবাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিন্তু সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি।

তাঁর বাবার শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।