রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নূরে আলম ইসলাম ওরফে খায়রুল নামের এক লেগুনাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় সোহান মুন্সী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুতুবখালী মাছের আড়ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক তাপস কর্মকার গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত খায়রুলের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাছিকাটা কান্দি গ্রামে। তিনি মাতুয়াইল মধ্যপাড়ায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় খায়রুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, সোহান মুন্সী ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড সড়কে দৈনিক শতাধিক লেগুনা চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লেগুনা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারী ট্রাফিক পুলিশের নামে মাসিক ১ হাজার টাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের নামে ৫০০ টাকা ও লাইনম্যানের জন্য ৪০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এ চাঁদাবাজির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী ও চিটাগাং রোড লেগুনাস্ট্যান্ডে বিরোধ চলে আসছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত-সংলগ্ন সুফিয়া গার্মেন্টসের পাশে লেগুনাচালক খায়রুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, লেগুনায় যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে খায়রুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত খায়রুলের বাবা মোয়াল্লেম সরদার বাদী হয়ে গতকাল যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহারনামীয় আটজন ও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে সিরিয়ালের বাইরে হৃদয় নামের আরেক লেগুনাচালক জোর করে তাঁর লেগুনায় যাত্রী উঠাতে থাকেন। এ সময় লেগুনাচালক খায়রুল আপত্তি জানালে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় খায়রুলকে ‘তুই যাত্রাবাড়ী আয়’ বলে হুমকি দিয়ে লেগুনা চালিয়ে যাত্রাবাড়ী চলে যান।
বেলা পৌনে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ীর সুফিয়া গার্মেন্টস-সংলগ্ন লেগুনাস্ট্যান্ডে খায়রুল পৌঁছামাত্র হৃদয়ের নেতৃত্বে অন্য লেগুনাচালক ইমরান, শাকিল, রায়হান, সোহানসহ ১০–১২ জন তাঁকে বেদমভাবে পিটিয়ে জখম করেন। খায়রুলের অবস্থার অবনতি দেখে হামলাকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত খায়রুলের ছোট বোন আছিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই আগে মাছের ফিডের ব্যবসা করত। দেড় বছর বেকার থাকার পর দেড় মাস ধরে ভাড়ায় লেগুনা চালাত। আমার একমাত্র ভাইয়ের ওপর ৭-৮ জনের পরিবারের সদস্যের ভরণপোষণ পরিচালনা করা হতো। তার তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খায়রুল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখেন চালকেরা।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, খায়রুল আলমের সঙ্গে হৃদয় নামের অন্য এক চালকের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার খায়রুলকে মারধরের পর ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত খায়রুলের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।