হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোলের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনের একটি চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ চালানটিতে প্রাথমিক গণনায় ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। এসব ফোনের আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দার এয়ারপোর্ট ও এয়ার ফ্রেইট সার্কেলের তৎপরতায় চালানটি পরীক্ষা করে এসব মোবাইল ফোনের সন্ধান পাওয়া যায়। রাতে আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ।
শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চালানটিতে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি মোবাইল ফোন রয়েছে।
এয়ার কার্গো ব্যবস্থার তথ্যানুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল (এমএডব্লিউবি) নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ এবং হাউস এয়ারওয়ে বিল (এইচএডব্লিউবি) নম্বর জেএলজি ৫৭২০৩। আমদানিকারক বা পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম রয়েছে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ বা বোনা কাপড় উল্লেখ করা হয়েছে। চালানটির ওজন ৮৯৫ কেজি এবং এতে ২০টি প্যাকেজ রয়েছে। হংকং থেকে চালানটি ঢাকায় আসে।
সিস্টেমের তথ্যানুযায়ী, চালানটি আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় আসে। সংশ্লিষ্ট হাউস এয়ারওয়ে বিলে প্রেরক হিসেবে ঝেজিয়াং শাওশিং শিনহুয়া নিটিং কোম্পানির এবং মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাঙ্কো গ্লোবাল লজিস্টিকস লিমিটেডের নাম রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফএফ কার্গো সার্ভিসের তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এয়ার কার্গো নথিতে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ বা বোনা কাপড় এবং অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল’ উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে কাপড়ের রোলের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন আনা হয়েছে।
প্রাথমিক গণনায় পাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে—রেডমি ১৪সি ৪৫০টি, রেডমি ১৫সি ১৫০টি, পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৫টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ৬৫৫টি।
শুল্ক গোয়েন্দার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বা ঘোষিত পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন আনার ঘটনায় পণ্য সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা, পণ্য গোপন এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তবে জব্দ মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল, আইএমইআই নম্বর, এগুলো নতুন না কি ব্যবহৃত, প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নিরূপণের পর এ ঘটনায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।
চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেড। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।