নিখোঁজ ফটোসাংবাদিক বাদল দাসকে মতিঝিল বিভাগের ডিবি পুলিশ গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এ দিন একই সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আজ বুধবার রাতে আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিল এলাকা থেকে ফটোসাংবাদিক বাদল দাসসহ আরও ছয়-সাতজনকে হাতেনাতে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠান ম্যাজিস্ট্রেট। বাদল দাস দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার ফটোসাংবাদিক।
এর আগে গত সোমবার থেকে নিখোঁজ হন বলে দাবি করে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর বন্ধু দাবি করা সুজিত শেখ বাবু।
পরে পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানিয়েছিলেন, ‘ফটোসাংবাদিক বাদল দাস নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় একজন সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ বাদল দাস পটুয়াখালী জেলার সদর থানা এলাকার ৩৫ সদর রোড নতুন বাজার গ্রামের বাসিন্দা বাসু দেব দাসের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর গুলিস্তানে শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনে বসবাস করছিলেন। সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ থাকেন বলে জানানো হয়। পরে আজ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশ।
সাধারণ ডায়েরি করা সুজিত শেখ বাবুর উল্লিখিত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তার আগে বাদল দাসের সহকর্মীরা জানিয়েছিলেন, বাদল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তাঁর বসবাসের কক্ষেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে নিখোঁজের পর একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে, তিনি ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) হেফাজতে রয়েছেন। এই খবরের ভিত্তিতে তাঁর রুমমেট ফটোসাংবাদিক সুজিত শেখ বাবু মতিঝিল থানা ও ডিবি অফিসে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ করেন। তবে পুলিশ প্রশাসন থেকে তাঁর আটকের বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি এবং সেখান থেকেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ছাড়া যে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ডিবি পরিচয়ে ফোন এসেছিল, সেটিতে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।