মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ঢাকার সাভারের বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি জামিন পেয়েছেন। তবে পরীমণির সঙ্গে আসা তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমণি। তবে জামিন নিতে তিনি ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে নিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পরীমণি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। এতে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়।
ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হন সাংবাদিকেরাও। তাঁদের মধ্যে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছারও পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরে আহত হন।
আশিকুজ্জামানের পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। এ সময় আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে আহত দুই সাংবাদিককে আদালতসংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আগামী সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন জানান, পরীমণি গালিগালাজ করে তাঁর হাতে খামচি দিয়েছেন, ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও গায়ে হাত দিয়েছেন।
সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেনও অভিযোগ করেন, পরীমণি তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন। একজন বিচারপ্রার্থীর মাথায়ও আঘাত করা হয়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা আদালত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ঘটনাস্থলে ঢাকা জেলার আদালত পরিদর্শক কামাল উদ্দীনসহ আদালত পুলিশের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকেরা।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার এ মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।