হোম > সারা দেশ > ঢাকা

মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলি, ৩ অস্ত্রধারী শনাক্ত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গেন্ডারিয়ায় গতকাল রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গোলাগুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় অস্ত্রধারী তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চা-দোকানি আলমগীর, পথচারী আশা আক্তার ও খাবারের দোকানের কর্মী সিয়াম গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গতকাল বিকেলে গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে রাকিব, বিল্লাল ও রিফাত নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তাঁদের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তাঁদের থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন তরুণকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরে হামলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, তিন আসামিকে ধরিয়ে দেওয়ার পরই বিএনপির ওই অফিসে হামলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন তরুণকে থানায় নেওয়ার সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলাকারীরা বিএনপির ওই নেতার কার্যালয় ও আশপাশের আরও পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপি নেতার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় মুদিদোকানি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘কাস্টমারকে সদাই দিচ্ছিলাম। হঠাৎ গুলির আওয়াজ শুনে দ্রুত শাটার লাগিয়ে বের হয়ে যাই।’ তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীদের বেশির ভাগের হাতে অস্ত্র ছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক কারবার নিয়ে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। বিএনপির ওই অফিসকে ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কার্যালয়ের দরজা ও জানালায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, এখনো কোনো মামলা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে অস্ত্র হাতে থাকা তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

আজ সোমবার সকালে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন।

ঘটনার পর স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিছু দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। থানা-পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও ঘটনার পর থেকে অভিযান চালাচ্ছে।