পয়োবর্জ্যের সংযোগ লাইনের কারণে রাজধানীর গুলশান-বনানী লেক প্রতিনিয়ত দূষণের শিকার হচ্ছে। এসব জলাশয়কে পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
আজ মঙ্গলবার গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে ‘রি-ওয়েট’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জলবায়ু-প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে জলাভূমি পুনরুদ্ধার নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, গুলশান-বনানী লেকের মতো জলাশয়কে পরিবেশবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। অনেক সময় বিভিন্ন সংস্থা সভায় উপস্থিত থাকে না কিংবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে পরিকল্পনা নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলাশয়গুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
রি-ওয়েট প্রকল্পের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রকল্পটি স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও প্রকৃতিনির্ভর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি ও জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল।
সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে রি-ওয়েট সারা দেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রি-ওয়েটের কো-লিড ইফাদুল হক। তিনি বলেন, রি-ওয়েট একটি এভিডেন্স-বেজড আরবান ওয়েটল্যান্ড রেস্টোরেশন মডেল। এর মাধ্যমে শহুরে জলাভূমির পরিবেশগত, সামাজিক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক শহুরে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাণ-প্রকৃতির ভারসাম্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের আওতায় প্রথমে গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তব কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
ইফাদুল হক রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রকল্পের ডেমোনস্ট্রেশন গ্রাউন্ড বা ‘ঘের’-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি সেমি-সার্কুলার বাঁশের কাঠামো তৈরি করে ২৩ ধরনের টুলকিট পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রধান বাস্তবায়নকারী রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ কনসালটেন্ট লিমিটেডের ট্রেজারার আমিনুর রসুল বলেন, রি-ওয়েট প্রকল্পের মাধ্যমে গুলশান-বনানীতে আবারও প্রাণ-প্রকৃতি ফিরে এসেছে। এতে জলাশয়টির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আইআইইডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেথ ডাউনি, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, রি-ওয়েটের প্রজেক্ট ম্যানেজার আসিফ মইনুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।