সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নকশা, গতি ও নিরাপত্তাবিশিষ্ট নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা সড়কে চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএসসিসি ভবনে রাজধানীর যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি লাঘবে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রশাসক। সভায় ‘বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশন’-এর নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে। নীতিমালায় জনভোগান্তি ও জীবিকা নির্বাহ দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইন, গতি ও নিরাপত্তাবিশিষ্ট নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা রাস্তায় চলবে, যাতে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
আবদুস সালাম জানান, ২০২১ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানকে চলাচলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নাগরিকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছে।
সভায় ফেডারেশনের নেতারা দাবি করেন, বর্তমানে অনেক চালক প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে আগ্রহী নন। ফলে কিছু মালিক লাইসেন্সযুক্ত প্যাডেল রিকশার কাঠামোতে ব্যাটারি সংযুক্ত করেছেন।
তাঁরা বলেন, লাইসেন্সকৃত যেসব প্যাডেল রিকশায় ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোকে নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের স্থায়ী রিকশার মালিক ও চালক ছাড়া মৌসুমি রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।