হোম > সারা দেশ > ঢাকা

নাসার নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশে ৮৫ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। ফাইল ছবি

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দুদক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন। দুদকের আবেদন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।

দুদক সূত্র বলেছে, জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ রয়েছে। দুদকের আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকানা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুসারে ওই ব্যাংক হিসাবে ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা ছিল।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ আইল অব ম্যানের ঠিকানায় ২০১৯ সালের ১৭ মে নিবন্ধিত হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির নামে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া, আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অর্থের একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে।

দুদক আরও বলেছে, বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না করে গোপন করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দুটি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট করা একটি অর্থ পাচার মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

আবেদনে বলা হয়েছে, দুদকের তদন্তকালে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, মামলার আসামি নাসরিন ইসলাম তাঁর নামীয় স্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি এই অবৈধ সম্পত্তি স্থানান্তর বা রূপান্তর হয়ে যায়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এসব সম্পদ অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।

এর আগেও বিভিন্ন তারিখে নজরুল ইসলামের বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন একই আদালত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।