রাজধানীর ভাটারার নতুনবাজার এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধের ঘটনায় শিশুসহ দুজন মারা গেছে। এরা হলেন—শাহিন (২৪) ও তার ভাগনি হাফসা আক্তার (৮)।
আজ শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মারা যান শাহিন (২৪)। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যায় হাফসা (৮)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ ও হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা ৪৫ শতাংশ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এর আগে গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নতুনবাজার ১০০ ফিট রাস্তার ৬ তলার একটি বাড়ির নিচতলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় দগ্ধ হন শাহীন (২৪), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) এবং শাহিনের ভাগনি হাফসা আক্তার (৮)।
দগ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, শাহিন কাপড়ের শোরুমে কাজ করতেন। ভাটারায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ঘটনার দিন ভোরে ওই বাসায় বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসাটির ভেতরে থাকা ৩ জনের শরীর পুড়ে গেছে। এরপর তাদের হাসপাতালে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, শাহিনের বাসায় তিতাস গ্যাসে লাইন রয়েছে। তাদের ধারণা, রাতে সেই লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে রুমে জমে ছিল। ভোরে রান্নার কারণে বা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
দগ্ধ ফাহিমার চাচি শামীমা সুলতানা বলেন, গত এক মাস আগে নতুনবাজারের ওই বাসায় ভাড়া উঠে শাহিন। বাসায় ওঠার সময় গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়। তখন বাড়িওয়ালা গ্যাস পাইপ মেরামত করিয়ে দেন। এরপরও কয়েকবার পাইপ থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। তবে পাইপ মেরামত করা হয়নি। বাড়িওয়ালার গাফিলতির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলেন অভিযোগ করেন তিনি।