পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে হাজারীবাগের পর এবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে শুরু হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অস্থায়ী বাজারের আয়োজন করা হয়। বাজারে এলাকার হাজারো মানুষ তাঁদের বাসা-বাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন। অর্থের পরিবর্তে বর্জ্য দিয়েই প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ায় কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।
বাজারে ১ জনের ভাত-তরকারি পেতে আধা কেজি, একটি মুরগি পেতে ৬ কেজি, মাছ পেতে ৫ কেজি বর্জ্য, ১ কেজি চাল পেতে ১ কেজি বর্জ্য, ২ কেজি আটা পেতে ৪ কেজি, ১ কেজি ছোলা পেতে ২ কেজি, ১ কেজি মসুর ডাল পেতে ৩ কেজি এবং ১ কেজি চিনি পেতে ৩ কেজি বর্জ্য দিতে হবে।
এ ছাড়া ১ কেজি লবণ পেতে ১ কেজি বর্জ্য, ৬টি ডিম পেতে ১ কেজি, ১ লিটার সয়াবিন তেল পেতে ৫ কেজি, ৫০০ গ্রাম সুজি পেতে ১ কেজি, একটি টি-শার্ট পেতে ২ কেজি এবং ১ প্যাকেট বিস্কুট পেতে ২ কেজি বর্জ্য দিতে হবে।
এ ছাড়া ২টি নুডুলস পেতে ১ কেজি বর্জ্য, ১ প্যাকেট টোস্ট পেতে ২ কেজি, ১ প্যাকেট চানাচুর পেতে ২ কেজি এবং একটি স্কুল ব্যাগ পেতে ৫ কেজি বর্জ্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। তিনি বলেন, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমায় ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে একদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষা—দুটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, শিগগিরই গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি এসটিএসের সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইয়ের ব্যবস্থা করে ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, নদী দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশীদার করছি।
ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর হাজারীবাগে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, কাচসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, মাছ, মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেন। কামরাঙ্গীরচরের অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।