রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কের ৩১ নম্বর বাসার নিচে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বাসার নিচে নামলে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী নুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলায় তাঁর মুখের বাম পাশ, কাঁধ ও বাম হাতে গুরুতর জখম হয়।
মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলাটি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ চারজন, আবার কেউ ছয়জনের কথা বলেছেন। তারা দুটি বা তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত ব্যক্তির ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন জানান, জুমার নামাজ শেষে বাসার নিচে নামলে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয় দুর্বৃত্ত নুরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মুখ, কাঁধ ও বাঁ হাতে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিল্লাল হোসেন বলেন, নুরুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বর্জ্য সংগ্রহের ঠিকাদারির কাজ করেন। কারা, কী কারণে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ সমবায়বিষয়ক সম্পাদক রাসেল হাওলাদার বলেন, নুরুল ইসলাম ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। হামলার কারণ জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও মুখে আঘাত থাকায় তিনি কথা বলতে পারেননি। সুস্থ হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে আহত অবস্থায় একজন বিএনপি নেতাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর মুখ, কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে।