রাজধানীর ধানমন্ডিতে ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী রিক্তা মণিকে ভবন থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ রিমান্ডেড নেওয়ার এ নির্দেশ দেন।
আজ রোববার ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার নথি থেকে দেখা যায়, শনিবার বিকেলে দুইজনকে আদালতে হাজির করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহনেওয়াজ বাপ্পি আসামিদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির প্রত্যেককে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দশতলা থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয় রিক্তা মনি। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. শাহিন ধানমন্ডি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর শুক্রবার গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে সবিবুর রহমান ও ফারাহ নুসরাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিক্তা মণির বাড়ি সুনামগঞ্জের সালনা থানার একটি গ্রামে। দিনমজুর পরিবারের সন্তান রিক্তা চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৬টায় বাদীর মেয়ে রিক্তা মনিকে বারান্দা বা ছাদ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের বাসায় কাজ করার সময় নিয়মিত তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, রিক্তা মনির দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ও তার বাম হাত ভাঙা পাওয়া গেছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।