প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীতশিক্ষক কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কামরুদ্দীন আবসারের মরদেহ আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনপর্ব চলে।
শহীদ মিনারে কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক কমিটি, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ মার্ক্সবাদী, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমগীত, সমাজ চিন্তা ফোরাম, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, শিল্পী কামরুদ্দীন আবসারের ছেলে আদনান মুকিত ও ডা. হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কামরুদ্দীন আবসারের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। বাদ জোহর সেখানে তাঁর জানাজা হয়। জানাজা শেষে রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি রক্ষার জন্য ২০০৬ সালে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এতে কামরুদ্দীন আবসার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বামপন্থী সংস্কৃতিকর্মী ও লেখক মহসিন শস্ত্রপাণির লেখা বিপ্লবী গান ‘বলো জয় জাগ্রত বীর জনগণ, হটাও সাম্রাজ্যবাদ...’-এর সুরকার কামরুদ্দীন আবসার। গানটি ফুলবাড়ী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের প্রধান উদ্দীপক সংগীতে পরিণত হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কামরুদ্দীন আবসার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে স্ট্রোক করেন। এরপর তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে ১৪ মে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৩০ মে তিনি মারা যান।