সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিকেলে আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করে মিরপুর মডেল থানা–পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখান থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।
এ ঘটনায় মিরপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এমপি আশিকা সুলতানার নেতৃত্বে সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই মিছিলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও উল্লেখ করে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে জড়িতদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়।