রংপুরের ১১টি স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মান (কিউওএস), মোবাইল টাওয়ারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্গত তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ (ইএমএফ) পরিমাপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।
আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ‘মোবাইল টাওয়ারের ইএমএফ পরিবীক্ষণ, জনসচেতনতা ও কিউওএস উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ইএমএফ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিটিআরসির কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল গত শনিবার থেকে আজ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ইএমএফ বিকিরণ পরিমাপ করে।
বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকা এবং টাওয়ারসংলগ্ন স্থাপনাকে ইএমএফ পরিমাপের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পরিমাপ করা স্থানগুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল, ক্যান্টনমেন্ট রোড, শাপলা মোড়, আলমনগর, শ্যামলী টেকনিক্যাল কলেজ, রেলওয়ে স্টেশন, তাজহাট বাজার, তাজহাট জমিদারবাড়ি, টাউন হল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় রয়েছে।
আইসিএনআইআরপি অনুযায়ী রেডিয়েশনের নিরাপদ সীমা ৬১ ভোল্ট পার মিটার (ভি/এম)। বিটিআরসির কারিগরি টিম রংপুরের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল এলাকায় পরিচালিত পরিমাপে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৯৫ ভিএম এবং গড় মান ১ দশমিক শূন্য ৮২ ভিএম রেকর্ড করেছে। ক্যান্টনমেন্ট রোডে সর্বোচ্চ মান ১০ দশমিক ৪৮০ ভিএম এবং রেলওয়ে স্টেশনে সর্বোচ্চ মান ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭৪ ভিএম। জেলার অন্য কোনো স্থানে রেডিয়েশনের মাত্রা ১১ ভি/এম অতিক্রম করেনি।
এ ছাড়া রংপুর শহর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের কিউওএস পরিমাপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনসমাগম বেশি এবং সংবেদনশীল এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিটিআরসির কিউওএস বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী, ২-জি ভয়েস-এমওএসের বেঞ্চমার্ক ৩ দশমিক ৫ হতে হয়। রংপুরে পরিমাপে গড় মান পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৭। ভয়েস এমওএস (মিন অপিনিয়ন স্কোর) হলো মোবাইল নেটওয়ার্কে ভয়েস কলের শ্রুতি যোগ্যতা ও কথোপকথনের গুণগত মান পরিমাপের একটি সূচক। ২-জি-গড় মান বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি হলেও ৪-জিতে কম পাওয়া গেছে। ৪-জি ভয়েস এমওএসের গড় মান ৩ দশমিক ৪২ এবং ৪-জি ভোল্টি ভয়েস এমওএসের গড় মান ৩ দশমিক শূন্য ৭ পাওয়া গেছে।
৪-জি ডাউনলিংক থ্রুপুট বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বেঞ্চমার্ক ১০ এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড)। পরিমাপে গড় পাওয়া গেছে ২৩ দশমিক ৩৯ এমবিপিএস। ডাউনলিংক থ্রুপুট বলতে মোবাইল নেটওয়ার্কের বেস স্টেশন থেকে ব্যবহারকারীর মোবাইল বা ডিভাইসে ডেটা পৌঁছানোর হারকে বোঝায়।
আপলিংক থ্রুপুটের বেঞ্চমার্ক ২ এমবিপিএসের বেশি। পরিমাপে গড় পাওয়া গেছে ১২ দশমিক ৯৪ এমবিপিএস। আপলিংক থ্রুপুট হলো ব্যবহারকারীর মোবাইল বা ডিভাইস থেকে বেস স্টেশনে ডেটা পাঠানোর হার।
মতবিনিময় সভায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ নেই। টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সচেতনতা বাড়াতে বিটিআরসি কাজ করছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, টাওয়ারের রেডিও সিগন্যাল ও পাওয়ারের বিষয়টি কারিগরি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা রয়েছে। তাই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা জরুরি। বাড়ির ছাদে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিয়ে মানুষের উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুমোদিত নিয়ম ও নির্ধারিত মান অনুসরণ করেই টাওয়ার স্থাপন করতে হয়।
গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহার প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট পরিমাণ এমবি কিনে কীভাবে তা ব্যবহার করবেন, সেটি তার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ চালু রয়েছে। কেউ সীমাহীন ইন্টারনেট সুবিধা চাইলে সে ধরনের প্যাকেজও রয়েছে। তবে সেবার মান ও গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল দায়িত্ব। ইন্টারনেট সেবাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য বিটিআরসি একাধিক স্তরে কাজ করছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।