সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় তাঁকে অর্থনৈতিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রলোভনে রাজি না হয়ে সব ফাঁস করে দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান।
আজ শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে সরকারের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তাঁর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
ওবায়দুরের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৯ জুন তাঁর ভাগনির কাছ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন এমপি হোস্টেলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বললে গাজী নজরুল তা স্বীকার করেন। সে সময় তাঁকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব এবং ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ না করলেও ভাগনির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গাজী নজরুল ও তাঁর ভাগনির ঘনিষ্ঠতা প্রত্যক্ষ করেন। গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাদের আপত্তিকর অবস্থানের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর বলেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই রাতেই ভাগনিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেন এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী অভিযোগ করেন, ১৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পর মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মেঝেতে ফেলে মাথায় লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর মা ও ছোট বোন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে নেয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা আদালত থেকে জামিন পান।
জামিনে মুক্ত আসামিসহ আরও কয়েকজন তাঁকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে জানান তিনি।
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তিনি যদি অপরাধী হন, তবে আইনের আওতায় আনা হোক। আর যদি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকির কারণে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তাঁর কাছে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার নথি, মামলার কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংক্রান্ত আরও কিছু নথি রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরেন।