হোম > সারা দেশ > ঢাকা

কার্ডধারী ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতাকে বহাল রাখার দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে খুচরা সার বিক্রেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ স্থগিত করে সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতাকে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মো. ফোরকান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম শাহীন। এ সময় কয়েক শত খুচরা সার ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফোরকান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ দেশের কৃষকদের সেবা দিয়ে আসছি। আমাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। ৪৪ হাজার পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষায় এই বৈষম্যমূলক নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হোক।’

অ্যাসোসিয়েশনের কক্সবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি মো. মনজুর বলেন, ‘আমাদের আয় সীমিত। লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে কৃষকদের সার বাকিতে দিয়েছি। আমাদের বাদ দিলে এই টাকা আর ওঠানো যাবে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্ডধারী প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা আছে। ২০০৯ সাল থেকে সরকারি অনুমোদন নিয়ে কাজ করছি। অনেককে সারের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারি পর্যায়ে ৫০ কেজির টিএসপি সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

বিক্রেতাদের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পৃথক পরিবেশক প্রথা বিলুপ্ত করে চালু হচ্ছে সমন্বিত ব্যবস্থা। এতে পুরোনোরা বাদ পড়বেন। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার দাবি না মানলে সচিবালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচজনের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। নতুন নীতিমালা জারির ফলে এ মাসের শেষে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।’

খুচরা সার বিক্রেতাদের দাবি, ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের বৈধ কার্ড ও লাইসেন্স বহাল রাখতে হবে। এতে একদিকে দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান রক্ষা হবে, অন্যদিকে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের বিদ্যমান ব্যবস্থাও সচল থাকবে।