হোম > সারা দেশ > ঢাকা

টিএসসি পরিচালক: কর্মচারীকে বাসার কাজ করান, অফিসেও উপস্থিতি বেশ কম

মো. বেলাল হোসেন, ঢাবি

ফারজানা বাসার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফারজানা বাসারের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালে টিএসসির কর্মচারীকে বাসার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, কর্মঘণ্টা অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে পরিচালকের বাসায় টিএসসির কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থী এক ব্যক্তির উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, অফিস সহায়ক রবিন হোসেন নিয়মিত টিএসসির অফিসে না গিয়ে পরিচালকের বাসায় যান এবং সেখানে কাজ করেন। অন্যদিকে কোনো নথিভুক্ত কর্মচারী না হলেও হযরত আলী নামে এক ব্যক্তিকে তিনি টিএসসিতে থাকার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাঁকে দিয়েও পারিশ্রমিক ছাড়াই বাসার কাজ করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হযরত আলীকে টিএসসিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। হযরত আলীর দাবি, তাঁকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তবে ফারজানা বাসার তা অস্বীকার করেছেন।

উপস্থিতির বিষয়টি যাচাই করতে এ প্রতিবেদক একাধিক দিন টিএসসিতে গিয়ে কর্মচারী মো. রবিন হোসেনকে অফিসে পাননি। অফিস সময়ে পরিচালকের বাসায় কাজ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিনি গত রোববার বেলা ২টার দিকে ক্যাম্পাসের ফুলার রোডে অবস্থিত পরিচালকের বাসার নিচে অবস্থান করেন। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে রবিন হোসেন ও হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা দুজনই পরিচালকের বাসায় অবস্থান করার কথা নিশ্চিত করেন। তবে তাঁরা কথা বলার জন্য পরিচালকের বাসভবন থেকে বের হওয়া বা পরে মোবাইল ফোনেও কথা বলতে রাজি হননি। ফুলার রোডের এক গেটম্যানও রবিনের নিয়মিত এ বাসায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গত ৫ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ কর্মদিবসের মধ্যে ৩২ কর্মদিবসে পরিচালকের মোট কর্মঘণ্টা পাওয়া গেছে ১০০ ঘণ্টা। অর্থাৎ এ সময়ে গড়ে তিনি দিনে মাত্র প্রায় ৩ ঘণ্টা ৭ মিনিট অফিসে ছিলেন। ১২ ও ১৪ জুলাই এবং ৬ আগস্ট তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

অফিস সহকারীসহ দুজনের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক ফারজানা বাসার প্রথমে বলেন, ‘অফিস টাইমে কেউ বাসায় কাজ করে না।’ পরে আবার বলেন, ‘ওরা মাঝে মাঝে যায় আমার বাসায়।’ ফারজানা বাসার এ সময় দাবি করেন, টিএসসির আগের প্রত্যেক পরিচালক অফিস থেকে ক্লিনার নিয়ে গেছেন বাসা পরিষ্কার করতে।

রবিন ও হযরত আলী অফিস সময়ে প্রায় নিয়মিতই পরিচালকের বাসায় যান—এমন তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ থাকার কথা জানালে ফারজানা বাসার বলেন, ‘তারা আগে থেকেই বাসায় কাজ করলে আপনাদের সমস্যা কী?’

অফিসে গড়ে তিন ঘণ্টা উপস্থিত থাকার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির মিটিং থাকে। আবার অফিসের প্রয়োজনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার কিংবা রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে হয়।’

তিন দিন অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই দিনগুলোতে আমি ছুটি নিয়েছি এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানিয়েছি।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, ৫ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালকের কোনো ছুটি ছিল না।

কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনো কর্মচারীকে কারও বাসায় নিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। আর

হযরত আলী যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী না হন, তাঁকে দিয়ে কোনো কাজ করানোর দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। টিএসসিতে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতেও পারে না।’

পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, টিএসসির উপদেষ্টা কোনো বিচ্যুতি পেলে তদন্ত করে সুপারিশ করবেন, এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিএসসি উপদেষ্টা হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, তিনি অভিযোগ সম্পর্কে অবগত এবং পরিচালককে একাধিকবার ডেকে এ নিয়ে কথা বলেছেন। পরিচালকের অফিসে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে কাজ চলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান উপদেষ্টা।