রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপি-ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গতকাল শনিবার রাতে ও আজ রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এক প্রবাসীর করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে ডিসি বলেন, ‘তাঁদের আমরা কেবল গ্রেপ্তার করছি, এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হবে।’
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন মো. সুমন। মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১ নম্বর, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে ২ নম্বর, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্তকে ৩ নম্বর ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে সুমন অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। পরিবারের ব্যবহারের জন্য গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। পরে সুমন তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ওই স্বর্ণ গ্রহণ করেন। সুমনের কাছে ছিল ১০০ গ্রাম ও তাঁর বন্ধু রোহানের কাছে ছিল ১০০ গ্রাম সোনা।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ভাড়া করা হায়েস গাড়িতে করে তাঁরা বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে পৌঁছালে আসামিরা তাঁদের পথ রোধ করেন। এ সময় তাঁদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ করার অভিযোগ তুলে এবং কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান আসামিরা।
এ সময় একজন পথচারী তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করেন এবং আরেকজন কৌশলে ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।