হোম > সারা দেশ > ঢাকা

মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ছাঁটাই নয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর কর, শ্রমিক ও শিল্প বাঁচাও’সহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

দ্রুত শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণ বাস্তবায়ন, মজুরি বোর্ড গঠন ও গণতান্ত্রিক শ্রমবিধি প্রণয়ন এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ছাঁটাই নয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর কর, শ্রমিক ও শিল্প বাঁচাও’সহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, সারাদেশে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় চার হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের জীবনে।

তিনি বলেন, শ্রম আইন ২০২৬ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রুত শ্রমবিধি প্রণয়ন করতে হবে। নতুন আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ সহজ করা, পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন এবং গৃহশ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতিসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে শ্রমবিধি প্রণয়ন না হলে এসব অধিকার বাস্তবে কার্যকর হবে না।

তাসলিমা আখতার বলেন, বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারখানায় জ্বালানি না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিক ও শিল্প উভয়ের ওপর। সরকারকে দ্রুত এ সংকটের সমাধান করতে হবে।

গণঅভ্যুত্থানে পোশাক শ্রমিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকরাও সেই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। সরকারকে তা বন্ধে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে মজুরি বাড়ানো হলেও তা শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। পরবর্তীতে মজুরি পুনর্মূল্যায়নের কথা থাকলেও তা হয়নি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করতে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান তিনি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বানও জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে শ্রম আইন ও শ্রমবিধি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।