কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে মিছিল ও জমায়েতের চেষ্টা করেছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর পাশাপাশি গুলশানে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা থেকে মিছিলের প্রস্তুতির সময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জুনায়েদ মৃধা (১৯), রাকিবুল হাসান (২৩), সাজ্জাদ হোসেন (১৯) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৯)। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার গুলশানে (রোড নম্বর ৩) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে আওয়ামী লীগের ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতা-কর্মী জমায়েত হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা মারমুখী আচরণ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এক রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় পাঁচটি ককটেল ফেলে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে আব্দুর রহিম (৪২) ও আরাফাত ইসলাম নিহাদ (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানার বড়পোল নবরত্ন হোটেল এলাকায় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। প্রায় এক মিনিট পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা সরে যান। পুলিশ বলছে, মিছিলটি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক সদস্য আসিফ মাহমুদের নির্দেশে যুব সংগঠক তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে হয়।
একই থানার আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় সকাল ৭টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতা-কর্মী ঝটিকা মিছিল করেন। পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক প্রধান ফয়সাল চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলটি বড়পোল রয়েল হোটেলের পূর্ব পাশ থেকে শুরু হয়ে হাইওয়ে স্যুটার্সের সামনের সড়কে গিয়ে শেষ হয়।
গাজীপুর মহানগরের পুবাইল থানার টেকপাড়া এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন সমর্থক ব্যানার নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে বক্তিয়ার রহমান হিমেল (২০), সাদৃশ বান্দা (১৯) ও তনু চৌধুরী (১৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।