হোম > সারা দেশ > ঢাকা

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড

আহমেদ বাবুর ছেলে এখনো বুঝতে পারছে না তার বাবা আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

‘আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। শিশু বয়সেই ওরা বাপহারা হলো। আমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে এখনো বুঝতে পারছে না, ওর বাবা আর নেই। আমি কীভাবে তাকে বোঝাব, তার বাবা আর কোনো দিন জীবিত ফিরে আসবে না? ওরা আর কোনো দিন বাবা ডাকতে পারবে না।’ স্বামীকে হারিয়ে আহাজারি করছিলেন বুবলী।

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আজ বুধবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির একজন সাভারের আহমেদ বাবু (৪০)। বাবুর মৃত্যুর খবরে আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

আহমেদ বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে। তিনি কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। আমিনবাজার জমিদার মার্কেটে তাঁর ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে একটি দোকান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার কাজে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার কলকাতায় যেতেন বাবু। সবশেষ গত সোমবার সড়কপথে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে কলকাতায় যান তিনি।

আজ দুপুর নাগাদ বাবুর মৃত্যুর খবর সাভারে পৌঁছালে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এমন একটি দুর্ঘটনায় যে তাঁকে চিরতরে হারাতে হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।

বাবুর স্বজনেরা জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি তাঁর ছিল গভীর টান। ব্যবসার প্রয়োজনে বাইরে থাকলেও নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কলকাতা থেকে ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ছিল তাঁর। সেই অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হলো না।

বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহিম বলেন, বাবুর জীবিত ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবার এখন তাঁর লাশের অপেক্ষায় রয়েছে । তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী বুবলী। তিনি বলেন, ‘তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে আর সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট ছেলেটি এখনো হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর জীবিত ফিরে আসবেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শূন্যতাই একসময় তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠবে।’