হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জাতীয় কনভেনশন: সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রত্যয়ে ৫ শতাধিক কর্মীর মিলনমেলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হলো লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন। গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক’ স্লোগানে গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশনে ৪৫ জেলা থেকে মিলিত হলেন পাঁচ শতাধিক সংস্কৃতিকর্মী। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ জাতীয় কনভেনশন উদ্বোধন করেন লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবীর।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে নূরুল কবীর বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু তা সবার হাতছাড়া হয়েছে। ১৯৬৯, ’৯০ এবং ’২৪-এর পর এই একই ঘটনা ঘটেছে। ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে কর্তব্য হবে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটিয়ে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর ঘটানো। বিশ্বে বড় কোনো পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে শুধু তখনই শাণিত হয়, যখন ওই রাজনীতিটা জনস্বার্থপরায়ণ, গণতন্ত্রপরায়ণ সাংস্কৃতিক পাটাতনে দাঁড়ায়। আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণতন্ত্র চাই, প্রতিনিধিত্ব চাই, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার চাই; তবে আমাদের সেই পাটাতন তৈরির কাজ আরও গভীরভাবে করতে হবে।’

আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সাংস্কৃতিক লড়াই সব লড়াইয়ের ভিত্তি। খেয়াল করি আর না করি, এই লড়াই চলছে। এই লড়াই শুধু মাঠে-ময়দানে হয়, তা নয়। এই লড়াই চায়ের দোকানে, পত্রিকায়, ফেসবুকে হয়।’

বাউলশিল্পী আবুল সরকার মহারাজ বলেন, ‘আমি গান করতে পারি। এইটাই আমার অস্ত্র। আমি পাঁচ মাস জেল খেটেছি, সেখানে আমার কতটুকু দোষ ছিল সেই ব্যাখ্যা আমি না দিই। কিন্তু আমি যে জেলমুক্ত, আমি আসলে বন্দীই আছি। আমি ওইদিন জেল থেকে মুক্তি পাব, যেদিন আমি গাইতে, নাচতে, বুক ফুলিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারব।’

লেখক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দুই ধরনের শিল্পী-সাহিত্যিক বিরাজমান। জনগণের কথা বলে প্রগতিশীল সংস্কৃতির মানুষ। আর প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি জনগণকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে চিন্তা-চেতনা ভোঁতা করে দেয়। তারা এটি করে জনগণের ওপর শোষণ ও নিপীড়ন টিকিয়ে রেখে নিজেদের ভোগবিলাস অব্যাহত রাখতে।’

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘১৭ বছর ধরে চলে আসা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমরা কলম ধরেছি। আজ বর্তমান সরকার যদি বিশেষ গোষ্ঠীকে দলদাস বানাতে চায়, ক্ষমতাকে অন্যায়ভাবে হাতিয়ারে পরিণত করতে চায়, তবে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য রুখে দাঁড়াবে।

নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমেদ বলেন, ‘মাসখানেক আগে আমাদের বাসায় মাদ্রাসায় পড়া একটি ছোট্ট শিশু আমার মেয়েকে এসে বলেছে তার শিক্ষকেরা বলেছেন, নাচ ভালো না। আমার কাছে যে মেয়েটা নাচ শিখত, তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি নাচ সমর্থন করল না। ...সবার জন্যই বাংলাদেশ। সবাই স্বাধীনভাবে কথা বলা, নাচ-গানের অধিকার পাক।’

কমরেড দীপা দত্ত বলেন, নির্বাচিত সরকার পেয়ে তিনি আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু গণমানুষের কথাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। আবার নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যে বাণিজ্য চুক্তি করল, তাতে বাংলাদেশ মার্কিন অধীনস্থ হলো।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে আয়োজন সঞ্চালনা করেন ঐক্যের সদস্যসচিব মফিজুর রহমান লালটু। জাতীয় কনভেনশন কার্যক্রমের শুরুর দিকে ছিল গণসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পাহাড়ি নৃত্য পরিবেশনা।