ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আজ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ভিসি চত্বরের জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আরিফুল ইসলাম তারেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ তাঁকে মারধর করেছেন।
আরিফুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘আমি ইউনিভার্সিটি ক্লাব থেকে ওষুধ কিনে ফিরছিলাম। ভিসি চত্বরে জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি বাইক প্রায় আমার শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে দিচ্ছিল। এতে আমি আতঙ্কিত হয়ে “হেই” বলে উঠি। আমার শব্দ শুনে বাইকটি থামে।’
আরিফুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘এরপর বাইকে থাকা ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, “ব্যাক সাউন্ড দিলে কেন?” আমি বলি, আমি ভয় পেয়েছি, এ রকম বলব না? তখন তিনি বলেন, “ব্রেনকে থামিয়ে রেখেছি, না হলে দেখতি।” আমি বলি, নাহলে মারতেন? এরপর তিনি আমাকে বলেন, “তুই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের না।”’
আরিফুলের অভিযোগ, এরপর ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখতে চান। তিনি পরিচয়পত্র বের করে দেখালেও সেটি নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘এরপর তিনি আমার বাম কানে আট-দশটি থাপ্পড় দেন। পরে মাথা ও মুখে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন। তারপর বন্ধুদের সহযোগিতায় আমি ঢাকা মেডিকেলে যাই।’
অভিযুক্ত মাহফুজ সৌরভের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমারও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। সে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।’
তবে কী ধরনের খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মাহফুজ প্রতিবেদকের পুনরায় পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানার পর তিনি তা যাচাই করে পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমাদের কাছে একটি অভিযোগ (মৌখিক) এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’