ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ইসমাইল নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসমাইল শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় রাজু ও শাওন নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ সোমবার ভুক্তভোগী কিশোরী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ফয়সাল নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বর্তমানে তারা আলাদা বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে ইসমাইলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইসমাইল নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে চলমান বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে তাকে একটি ক্লাবের সামনে যেতে বলেন ইসমাইল। সেখানে গিয়ে ক্লাবটি বন্ধ দেখতে পেয়ে তিনি ফোন করলে রাজু তাকে ক্লাবের নিচতলা থেকে একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী।
তার ভাষ্য, বাসাটিতে যাওয়ার পর সেখানে আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে তাকে স্বামীকে তালাক দিতে টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে একটি কক্ষে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।