নাগরিক সেবায় অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে শিথিলতা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক সেবায় অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতও করা হবে।
আজ সোমবার বাসাবোর বৌদ্ধমন্দির অডিটরিয়ামে ডিএসসিসির অঞ্চল-২ ও ৫-এর আওতাধীন বিষয় নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণশুনানিতে খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, স্বামীবাগ, গোপীবাগ, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, টিকাটুলী, ধলপুর, মান্ডা ও মুগদা এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও বিভাগের কর্মকর্তারা নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
আবদুস সালাম বলেন, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও জনগণের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগে ভাগ করে নিতে হবে।’
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম জানান, বৃষ্টি হলে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমার সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের বাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব ও ফ্রিজের নিচের অংশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গণশুনানিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তিনি বলেন, এই স্বচ্ছতাই সুশাসনের ভিত্তি।
আবদুস সালাম আরও জানান, ঢাকা-৯ আসনে ইতিমধ্যে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, ড্রেনেজ ও পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে।