হোম > সারা দেশ > ঢাকা

স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায় স্বীকার শিপনের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রতীকী ছবি

‘পারিবারিক অশান্তি ও তুচ্ছ কারণে ঝগড়াঝাঁটির কারণে রাগে-ক্ষোভে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করি। শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিয়ে বাধা দিতে এলে তাঁকেও উপর্যুপরি ছুরি মারি’—রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৫) ও স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রিকে (২১) খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা বলেন রাত্রির স্বামী মো. হৃদয় ওরফে শিপন।

আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন শিপন।

দুপুরের পর তাঁকে আদালতে হাজির করে কলাবাগান থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেল আসামি শিপনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামি শিপনকে কারাগারে পাঠান।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গতকাল রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গৃহবধূ রাত্রির লাশ ও তাঁর মা ফিরোজা বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ফিরোজা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়ার পরে তিনি মারা করেন।

ওই ঘটনায় গতকাল আসামির শ্বশুর মো. ফারুক বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। এরপর শিপন কলাবাগান থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে ফারজানা আক্তার রাত্রির সঙ্গে পারিবারিকভাবে আসামি শিপনের বিয়ে হয়। দাম্পত্যজীবনে তাঁদের এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে আসামি উগ্র মেজাজের হওয়ায় তুচ্ছ বিষয় ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৪ জুলাই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি গেলে ৩০ জুলাই আসামিও দুই বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান। স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে শিপন বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ না করেই ৩১ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে ১ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাসায় ফেরেন। পরদিন ২ আগস্ট (গতকাল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসায় শিপন ও রাত্রির মধ্যে ফের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামি রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো সবজি কাটার ছুরি এনে রাত্রির গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। এ সময় রাত্রির মা ফিরোজা বেগম মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আসামি তাঁকেও একই ছুরি দিয়ে গলা, কাঁধ ও হাতে উপর্যুপরি আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি সূত্র জানায়, আসামি শিপন জবানবন্দিতে বলেছেন, শিপন ও রাত্রির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্যকলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল।

ঘটনার কিছুদিন আগে অর্থাৎ ২৪ জুলাই শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে একটি আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শিপন ও রাত্রির মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সেই ক্ষোভে শিপন অনুষ্ঠান শেষ না করেই ঢাকায় চলে আসেন।

ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে শিপনের ফের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তখন শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে শিপন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে স্ত্রীকে ও পরে বাধা দিতে গেলে শাশুড়িকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।

কেরানীগঞ্জে অবৈধ ইয়াবা তৈরির দুই কারখানার সন্ধান, কাঁচামাল জব্দ

মোহাম্মদপুরে মামুনুল হকের মাদ্রাসার পাশে ককটেল বিস্ফোরণ

বিআরটিএতে দালাল চক্রের ৫ সদস্যের কারাদণ্ড

নির্বাচনের আগে পোস্ট-ইসলামিজম কেন ‘জামায়াতের কোলে’—প্রশ্ন মাহফুজ আলমের

বাসার সামনে স্কুলশিশুর গলা থেকে চেন ছিনতাই

গ্রামীণফোনের পাওনা নিষ্পত্তির দাবি সাবেক কর্মীদের, এনবিআরে স্মারকলিপি

স্ত্রী-শাশুড়িকে খুন করে থানায়: পরকীয়া নয়, প্রাথমিক তদন্তে ‘ইগো প্রবলেম’ পাচ্ছে পুলিশ

অভিনেতা যাহের আলভীর জামিন

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যু

দন্তচিকিৎসক পিনু হত্যা: স্বামী সোহেল রানা দুই দিনের রিমান্ডে