হোম > সারা দেশ > ঢাকা

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল: গ্রেপ্তার ২৪ জন ১০ দিনের রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৫ জনের মধ্যে ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে এক আসামিকে শিশু দাবি করায় তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁর বয়স যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৫ জনকে বিকেলে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সন্ধ্যায় এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

শুনানি শেষে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একজনকে আইনজীবীরা শিশু দাবি করায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। আগামীকাল রোববার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—মো. রহিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান, মো. মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াসার (সাফায়াত), মো. রাসেল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহমেদ, মো. সোহরাব, মো. হযরত আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, মো. হাবিব সিকদার, মো. জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, মো. ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, মো. নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করা, সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশের আয়োজন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।