জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন দাবি করেছেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর ও অস্থায়ী আবাসনের দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।
আজ মঙ্গলবার উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, আমাদের কতিপয় শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। প্রক্টরিয়াল টিম ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাদের বাধা দেয়। সেখান থেকেই তর্কাতর্কির সূত্রপাত। পরে ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’
ঘটনার সময় প্রশাসনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জবি উপাচার্য বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ প্রশাসনকে ডেকে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উপাচার্য বলেন, ‘কোনো জায়গাতেই এই ধরনের ঘটনাকে আমরা সমর্থন করি না। যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, কয়েকজন জাতীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর আহত ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
আবাসন ইস্যুতে চলমান বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য সরকার যে ২০ কোটি টাকা দিয়েছে, তা ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ। এই অর্থ দিয়ে অস্থায়ী টিনশেড আবাসন নির্মাণের সুযোগ নেই।
জবি উপাচার্য বলেন, প্রথমে অস্থায়ী আবাসনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা অনুমোদন দেয়নি। তাদের নির্দেশনা ছিল, সরকারি অর্থে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে হবে। এরপর একাধিক সভা, নকশা চূড়ান্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবি জানাতে পারেন। তবে তারও একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। বাইরের অতিথিদের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়।
আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উল্লেখ করে জবি উপাচার্য বলেন, যাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাঁদের মধ্যে সংঘাত কাম্য নয়। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার দুপুরে জবি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।