নিজেদের দীর্ঘদিনের পাওনা আদায়ের দাবিতে এবার আন্দোলনে শিশুদেরও যুক্ত করলেন গ্রামীণফোনের (জিপি) সাবেক কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ২০১০-২০১২ সময়কালের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ ও আইনসংগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নিজেদের পরিবারের শিশুদের নিয়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা।
গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাদাত মো. শোয়েব জানান, সাবেক কর্মীদের এই আন্দোলন গত ২১ মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। ১৬ বছর ধরে পাওনা পরিশোধের অপেক্ষার পরও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে শিশুরা নিজেদের লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেয়। এসব প্ল্যাকার্ডে তারা পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা, পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা তুলে ধরে।
আয়োজকেরা বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি আর্থিক বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এর প্রভাব শুধু সাবেক কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে। সন্তানদের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সাবেক কর্মীরা জানান, মানববন্ধনে শিশুদের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল কোনো ধরনের সংঘাত তৈরি করা নয়। বরং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনার দাবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পরিবারগুলোর মানবিক দিকটি সামনে তুলে ধরা।
মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা বলেন, প্রতিটি বকেয়া দাবির পেছনে একটি করে পরিবার রয়েছে। বাবা-মায়েরা সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে চান, আর সন্তানরা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিতে চায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তাঁদের সেই পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মী চাকরি সংক্রান্ত নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময় জিপি হাউসের সামনে এবং আরও কয়েকটি জায়গায় সমবেত হয়েছেন। আমাদের জানা মতে, তাদের বেশির ভাগ বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তারা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে মহামান্য আদালতে বিচারাধীন।’
বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি গ্রামীণফোন শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে কোম্পানিটি বলেছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে তারা। গ্রামীণফোনের অভিযোগ, সাবেক কর্মীরা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রামীণফোন, এর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ছাড়াও, গ্রামীণফোন এবং এর কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, গ্রামীণফোন তার কর্মী এবং কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিতে বাধ্য হয়েছে।
আদালতের প্রক্রিয়ার বিষয়ে গ্রামীণফোন আরও জানায়, ডব্লিউপিপিএফ (কোম্পানি মুনাফায় শ্রমিক অংশীদারত্ব তহবিল) বিষয়টি যখন একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ছিল এবং সংশ্লিষ্ট এসআরও (বিধিবদ্ধ প্রবিধান আদেশ) এর ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল, তখন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল (তৎকালীন কর্মীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদল) তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য গ্রামীণফোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, জিপি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিরোধটি নিষ্পত্তি করে।
ফলস্বরূপ, এই নির্দিষ্ট রিট আবেদনটি তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়। তাই জিপি আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে প্রত্যাহারের পর, কিছু প্রাক্তন কর্মী পূর্ববর্তী সমঝোতাকে অমান্য করে সুদের টাকা দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি নিয়ে একটি বিচারবিভাগীয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বিষয়টির আইনি সমাধানের লক্ষ্যে গ্রামীণফোন আদালতের ব্যাখ্যা চেয়ে একটি নতুন রিট আবেদন দায়ের করেছে।