হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বার্ষিক সাধারণ সভা: মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আফতাবনগর গড়ার প্রত্যাশা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর হাতিরঝিলে শনিবার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর আফতাবনগরকে মশামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ এ এমন প্রত্যাশার কথা জানান তারা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ কাইয়ুম বলেন, মশা পরিষ্কার করেন, লাইট লাগান, সিসিটিভি লাগান, নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত একটা সমাজ গঠন করতে চাই।

কাইয়ুম বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে যারা ভালো কাজ করেন, তাদের উৎসাহিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় গত দুই বছরে সোসাইটির গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে সোসাইটির স্মরণিকা ‘অর্জন’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন এম এ কাইয়ুম।

স্বাগত বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, আজকের এই সভা কেবল একটি সভা নয়। এটা আমাদের একে অপরের প্রতি আস্থা, দায়বদ্ধতা ও ঐক্যবদ্ধ স্বপ্নের প্রতিফলন।

আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় গরুর হাট উচ্ছেদ, সাঁটল বাস সেবা চালু, তিনটি সেতুর সংযোগ স্থাপন, টহল গাড়ি বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাঠ ও পার্কের জায়গা বুঝে নেওয়া এবং চারটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

সোসাইটির আর্থিক কার্যক্রম অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট করা হয়েছে উল্লেখ করে আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের বেশির ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। কিছু কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

আলমগীর ঢালী বলেন, এই সোসাইটি একটি পরিবার। এই সোসাইটির সবাই আমার পরিবারের সদস্য। আফতাবনগর আমার ভালোবাসার ঠিকানা।

সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এস এম কামাল। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে আপনারা আস্থা, বিশ্বাস নিয়ে আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই আস্থা বজায় রাখতে আমরা পুরো কমিটি আন্তরিক চেষ্টা করেছি।

গত দুই বছরে আফতাবনগর-বনশ্রী যোগাযোগে বাঁশের সাঁকোর অবসান, অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন, মসজিদ নির্মাণ ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সহায়তা, গরুর হাট নিষিদ্ধকরণ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পার্ক, খেলার মাঠ ও কবরস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

এস এম কামাল বলেন, আমরা হয়তো সবকিছু করতে পারিনি। কিন্তু আফতাবনগরবাসীর উন্নতির জন্য আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি রাখিনি।

সভায় আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সোসাইটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ। তিনি জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার সময় সোসাইটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দুই বছর ৭ মাসে আমরা এই সম্পদ ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, সোসাইটির আর্থিক কার্যক্রম সিএ ফার্মের মাধ্যমে অডিট করানো হয়েছে। এরপরও কারও কোনো প্রশ্ন বা সংশয় থাকলে সোসাইটির কার্যালয় থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে।

পরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সোসাইটির সদস্যরা আর্থিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ আফতাবনগরের মশা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা নিয়ে সোসাইটির নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের উত্তর দেন সোসাইটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন ঢালী। এ সময় কয়েকজন সদস্য আর্থিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০১০ সাল থেকে আমি আফতাবনগর সোসাইটির সদস্য। নির্বাচনের মাধ্যমে যে পরিষদ গঠন হয়েছিল, তাদের মেয়াদ শেষে তারা একটি সাধারণ সভা করেছে। একটি সংগঠনের জন্য গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অনেক বড় বিষয়।

মোহাম্মদ আলী বলেন, কার্যক্রম যারা করবেন, তাদেরই সমালোচনা হবে। আমি আশা করব, শিগগিরই তারা আবারও নির্বাচনের আয়োজন করবেন।

সভায় সোসাইটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।