পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় ছিল শিশুটি। সাত মাস ধরে বেড়ে উঠছিল মায়ের গর্ভে। হয়তো আর কয়েক মাস পরই মায়ের কোলজুড়ে আসত নতুন এই অতিথি। তাকে ঘিরে কত স্বপ্নই না ছিল নাজমা আক্তার ও তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই নিভে গেল নাজমার গর্ভের সন্তানের জীবনের আলো। একই সঙ্গে থেমে গেল নাজমা ও আলমগীরের জীবনের গল্প।
ঘটনাটি আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হজরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষের। মাসখানেক আগে নাজমা ও আলমগীর ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ছোট্ট সেই ঘরেই চলছিল তাঁদের সংসার।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই কক্ষ থেকে নাজমা ও আলমগীরের মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের অনাগত সন্তানের মৃত ভ্রূণ।
নাজমা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় মাগুড়া পাকপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তাঁর স্বামী আলমগীর একই উপজেলার নিশা পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
জীবিকার তাগিদে দুজনেই আশুলিয়ায় এসেছিলেন। নাজমা কাজ করতেন জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায়। তাঁর ছোট বোন শাপলা আক্তারও একই কারখানায় কাজ করেন। আর আলমগীর এলাকায় ঘুরে ঘুরে পান বিক্রি করতেন।
নাজমার বোন শাপলা আক্তার বলেন, নাজমা ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর মাত্র কয়েক মাস পরই হয়তো সন্তানকে কোলে নিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সন্তানও মায়ের সঙ্গে পৃথিবীতে আসার আগেই হারিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, নাজমার গর্ভে যে শিশুটি সাত মাস ধরে পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় ছিল, সেই অনাগত সন্তানটিও বাবা-মায়ের সঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারিয়ে গেল।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, নাজমা ও আলমগীরকে হত্যার পর তাঁদের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে এবং কারা তাঁদের হত্যা করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।