ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রাজধানীর জিগাতলা ও যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির নবগঠিত টাস্কফোর্স। অভিযানে জিগাতলার দুটি নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভবন মালিকদের মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে জিগাতলা এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদ, বেইজমেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় দুই ব্যক্তি মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৭০ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ভবনের মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন দুটির প্রবেশপথে ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্কতামূলক লাল চিহ্নযুক্ত লিফলেট সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকটি সরকারি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ এবং ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি পথচারী ও ব্যবসায়ীদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযান শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মীর শাহে আলম আরও জানান, জাতীয় কমিটির অধীনে গঠিত টাস্কফোর্সের এ ধরনের অভিযান রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরে যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
অভিযানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।