সৌদি আরবে আড়াই হাজার রিয়াল বেতনে ড্রাইভিং ভিসার লোভ দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা ড্রাইভিং ভিসার নাম করে সাধারণ মানুষের হাতে টুরিস্ট ভিসা ধরিয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করত।
কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. শামীম, মো. রুহুল আমিন, মো. হৃদয় হাসান, আবু রায়হান ও মো. সানি মিয়া। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩টি স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন হিসাবের রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চক্রটি বনানী সৈনিক ক্লাব এলাকায় একটি ভুয়া অফিস খুলে ড্রাইভিং ভিসায় সৌদি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিত। এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করে তারা ইতিমধ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে একটি টুরিস্ট ভিসা দিলে প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বনানী থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট জিম্মি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একইভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল।
এ বিষয়ে সিআইডি প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে পাসপোর্ট বা অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ও মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা প্রতারণায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।