‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’
‘উৎসবে গর্বে দায়িত্বে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীদের সম্মাননা ও সনদ প্রদান দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ।
এ সময় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রথিতযশা শিল্পীদের ক্যানভাসে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় করে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ অতীতকে ভিত্তি করেই আধুনিক সমাজ সমৃদ্ধ হয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ব্রিটিশ আমলে যেভাবে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীরা একত্রিত হয়ে ঢাকার চিত্র এঁকেছিলেন, তার শত বছর পর ডিএসসিসি আবার প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে ঢাকাকে তুলে ধরার এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য এক অনন্য উপহার।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বলেন, চিত্রশিল্প সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। ভাষার প্রচলন ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আগে থেকেই মানুষ চিত্রশিল্পের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে আসছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে চিত্রশিল্পীদের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে জয়নুল আবেদিন, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দেবদাস চক্রবর্তী, স্বপন চৌধুরী ও নুরুন্নবী খানের মতো বীর শিল্পীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন খয়বর রহমান। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হীনম্মন্যতা দূর করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঁচটি বিভাগে মোট ১৫ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ঢাকাকে নিয়ে আঁকা ৪২টি চিত্রকর্মের জন্য ৪২ জন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পীকে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালার ৪ নম্বর গ্যালারিতে এসব ৪২টি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে চিত্রকর্মগুলো নগর ভবনে অবস্থিত ‘নগর জাদুঘরে’ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে।