হোম > সারা দেশ > ঢাকা

মেজর পরিচয়ে প্রতারণা, সেনাবাহিনীর ভুয়া কার্ড-পোশাকসহ ডিবির হাতে ধরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামত। ছবি: আজকের পত্রিকা

সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে উত্তরার ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের একটি বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি ওয়াকিটকি, ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর ও র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়ের ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক ও বিভিন্ন ফরম, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়ের পোশাক পরা ছবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নুরুল চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন। কখনো ‘মেজর আল মামুন’, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

ডিবি বলছে, চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ ছিল এই চক্রের অন্যতম টার্গেট। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তাঁরা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক এবং বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া কখনো এসবি-ডিবির সদস্য এবং কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি কর্মকর্তা আরও জানান, নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে শাহ আলী থানায় একটি মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।